প্রথমবার ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে ওঠার দিনটি উত্তেজনা ও দৌড়ঝাঁপে ভরা থাকে। জিনিসপত্র নামানো, চাবি বুঝে নেওয়া, ঘর গোছানো, এর মাঝে অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ চোখ এড়িয়ে যায়: বাসার অবস্থা লিখে রাখা, মিটার রিডিং নেওয়া, ভবনের নিয়ম জানা। এই কাজগুলো প্রথম দিনেই সেরে ফেললে মাস বা বছর পর বাসা ছাড়ার সময় অনেক ঝামেলা বাঁচে।
এই লেখায় নতুন বাসায় ওঠার দিন ও প্রথম সপ্তাহে কী কী করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। বাসা বদলের আগের প্রস্তুতির তালিকা পাবেন ঢাকায় বাসা বদলের আগে যে প্রস্তুতিগুলো নেবেন লেখায়।
১. ওঠার আগে হাতে রাখুন
- সই করা ভাড়া চুক্তি ও অগ্রিমের রসিদের কপি
- বাড়িওয়ালা ও ভবন ম্যানেজারের ফোন নম্বর
- ছবি ও ভিডিও তোলার জন্য চার্জ দেওয়া ফোন
- ছোট একটি টর্চ, এক্সটেনশন বোর্ড ও কিছু প্লাস্টিক ব্যাগ
২. জিনিস নামানোর আগে বাসা দেখুন
খালি ঘরেই সবচেয়ে ভালো দেখা যায়, তাই আসবাব ঢোকানোর আগে প্রতিটি ঘরের দেয়াল, মেঝে, দরজা-জানালা, বাতি ও ফ্যান আবার একবার দেখুন। দাগ, ফাটল, ভাঙা ফিটিংস ও স্যাঁতসেঁতে জায়গার ছবি তারিখসহ তুলুন। ছবির সঙ্গে ছোট নোট লিখে রাখুন, আর সম্ভব হলে বাড়িওয়ালাকেও পাঠিয়ে দিন। কীভাবে তালিকা করবেন, বিস্তারিত পাবেন ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় মালিক ও ভাড়াটিয়ার তালিকা লেখায়।
৩. চাবি, তালা ও নিরাপত্তা
কয়টি চাবি পেলেন, গুনে নিন। অনেকে নিরাপত্তার জন্য নিজের খরচে দরজার তালা বদলান; এটি করতে চাইলে মালিকের অনুমতি নিয়ে লিখিত রাখুন। ফটকের কার্ড, লিফটের কার্ড বা গ্যারেজের রিমোট থাকলে তাও বুঝে নিন।
৪. মিটারের রিডিং ও ছবি
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মিটার কোথায়, চিনে নিন এবং ওঠার দিনের রিডিংয়ের ছবি তুলুন। এই রিডিং থেকেই আপনার বিলের শুরু ধরা হবে। বিদ্যুৎ প্রি-পেইড হলে রিচার্জের নিয়ম জেনে নিন। বিলের দায়িত্ব কার, চুক্তিতে লেখা আছে কি না, মিলিয়ে দেখুন। বিস্তারিত জানতে পড়ুন ঢাকার ফ্ল্যাটে পানি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ: ভাড়ার আগে যা যাচাই করবেন।
৫. ভবনের নিয়ম জেনে নিন
ম্যানেজার বা নিরাপত্তাকর্মীর কাছ থেকে জেনে নিন:
- অতিথি ও ডেলিভারির লোক আসার নিয়ম, ফটকে কী নিবন্ধন করতে হয়
- ময়লা ফেলার সময় ও জায়গা
- ছাদ ও কমন এলাকা ব্যবহারের নিয়ম
- পার্কিংয়ের বরাদ্দ
- রাতে ফটক বন্ধের সময়
- সার্ভিস চার্জ কোথায় ও কখন দেবেন
৬. জরুরি নম্বর ও পরিচিতি
বাড়িওয়ালা, ম্যানেজার, নিরাপত্তাকর্মী, নিকটতম হাসপাতাল ও ফার্মেসির নম্বর ফোনে ও কাগজে রাখুন। বাংলাদেশে জরুরি সেবার জাতীয় নম্বর ৯৯৯। প্রতিবেশীদের সঙ্গে ছোট সৌজন্য পরিচয় করুন; জরুরি সময়ে তাঁরাই প্রথম সাহায্যকারী। গ্যাস লিক বা আগুনের মতো পরিস্থিতিতে কী করবেন, তা পরিবারের সবাইকে জানিয়ে রাখুন।
৭. ভাড়াটিয়ার তথ্য জমা
ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ভাড়াটিয়ার তথ্য থানায় জমা দেওয়ার নিয়ম আছে। বাড়িওয়ালা সাধারণত ফরম দেন। কোন তথ্য ও কাগজ লাগবে এবং কোথায় জমা হবে, তা বাড়িওয়ালা বা সংশ্লিষ্ট থানা থেকে জেনে নিন।
৮. প্রথম সপ্তাহের কাজ
- নতুন ঠিকানা ব্যাংক, মোবাইল সেবা, স্কুল ও অফিসকে জানান
- ইন্টারনেট সংযোগ নিন বা বদলান
- ঘরে ছোটখাটো সমস্যা (কল ফোঁটা, ঢিলা সুইচ) পেলে বাড়িওয়ালাকে লিখিতভাবে জানান
- বাসার ছবি ও তালিকার একটি কপি আলাদা জায়গায় (যেমন ইমেইল বা ক্লাউড) রাখুন
৯. ভাড়ার পরিশোধ ও রসিদের অভ্যাস
প্রথম মাস থেকেই ভাড়া দেওয়ার তারিখ ও মাধ্যম ঠিক রাখুন এবং প্রতিবার রসিদ বা বার্তার প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ে দিলে লেনদেনের স্ক্রিনশট রাখুন। এ অভ্যাস পরে অনেক বিরোধ এড়াতে সাহায্য করে।
প্রথম দিনের চূড়ান্ত তালিকা
| বিষয় | ঠিক আছে? |
|---|---|
| চুক্তি ও রসিদের কপি আছে | ☐ |
| খালি ঘরের ছবি তুলেছি | ☐ |
| চাবি, কার্ড ও রিমোট গুনেছি | ☐ |
| মিটার রিডিংয়ের ছবি তুলেছি | ☐ |
| ভবনের নিয়ম জেনেছি | ☐ |
| জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করেছি | ☐ |
| ভাড়াটিয়ার তথ্য জমার নিয়ম জেনেছি | ☐ |
| ঠিকানা বদলের কাজ শুরু করেছি | ☐ |
শেষ কথা
প্রথম দিনের কয়েক ঘণ্টার সচেতনতা পরবর্তী বছরগুলোর মানসিক শান্তি দেয়। সবকিছু লিখে ও ছবি তুলে রাখুন, নিয়ম জেনে নিন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ুন। নতুন বাসায় সুন্দর কাটুক আপনার সময়।
Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: ভাড়ার বাসা খুঁজছেন? আমাদের Rent Property পাতা ঘুরে দেখুন, অথবা প্রয়োজন জানিয়ে যোগাযোগ করুন।