ভাড়ার বাসা হস্তান্তরের দিনটি ছোট একটি অনুষ্ঠানের মতো মনে হলেও আসলে এটি ভবিষ্যতের অনেক বিরোধ এড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর সুযোগ। বাসা ছাড়ার সময় "এই দাগ তো আগে ছিল না" বা "এই লাইট ঠিকই ছিল" নিয়ে তর্ক হলে সত্য প্রমাণ করা কঠিন, যদি ওঠার দিনের কোনো লিখিত বা ছবির রেকর্ড না থাকে। একটি সাধারণ তালিকা ও ছবি দুই পক্ষকেই সুরক্ষা দেয়।

এই লেখায় ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালা দুজনের জন্য বাসা হস্তান্তরের সময় কীভাবে তালিকা তৈরি করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো। ক্রেতার জন্য নতুন ফ্ল্যাটের হস্তান্তরের তালিকা পাবেন নতুন ফ্ল্যাট হস্তান্তরের সময় ক্রেতার চেকলিস্ট লেখায়।

১. হস্তান্তরের দিন কে কে থাকবেন

বাড়িওয়ালা বা তাঁর প্রতিনিধি এবং ভাড়াটিয়া, দুজনেই উপস্থিত থাকুন। দরকারে একজন সাক্ষী রাখুন। তাড়াহুড়ো না করে অন্তত এক ঘণ্টা সময় হাতে রাখুন।

২. ঘর ধরে ধরে অবস্থা লিখুন

প্রতিটি ঘরে নিচের বিষয়গুলো দেখে লিখুন:

  • দেয়াল ও ছাদ: রং, দাগ, ফাটল, স্যাঁতসেঁতে ভাব
  • মেঝে: টাইল ফাটা বা উঠে যাওয়া আছে কি না, দাগ
  • দরজা ও জানালা: খোলা-বন্ধ হয় কি না, তালা ও ছিটকিনি, কাচ
  • বিদ্যুৎ: সুইচ, সকেট, বাতি ও ফ্যান কাজ করে কি না
  • বাথরুম ও রান্নাঘর: কল, সিঙ্ক, কমোড, ড্রেন, ফিটিংস, গ্যাসের সংযোগ

৩. আসবাব ও যন্ত্রপাতির তালিকা

সজ্জিত বাসা হলে প্রতিটি জিনিসের নাম, সংখ্যা ও অবস্থা লিখুন। যেমন: খাট ২টি (ভালো অবস্থায়), ফ্রিজ ১টি (চালু, একটি তাকে ফাটল), এসি ১টি (চালু)। যন্ত্র চালিয়ে দেখে ঠিকমতো চলে কি না, তাও লিখুন।

৪. মিটার রিডিং ও বিলের তথ্য

ওঠার দিনে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির মিটারের রিডিং লিখুন এবং ছবি তুলুন। এর পর থেকে বিলের দায় কার, এই রিডিং থেকেই নির্ধারিত হবে। বকেয়া কোনো বিল থাকলে তার অবস্থা লিখুন।

৫. চাবি, কার্ড ও রিমোটের হিসাব

কয়টি চাবি, ফটকের কার্ড, লিফটের কার্ড, গ্যারেজ বা পার্কিংয়ের রিমোট ও সংযোগের তথ্য দেওয়া হলো, গুনে লিখুন। বাসা ছাড়ার সময় একই সংখ্যা ফেরত দেওয়ার কথা ঠিক করুন। অতিরিক্ত চাবি বানালে কে জানাবেন এবং কে খরচ দেবেন, তাও লিখুন।

৬. ছবি ও ভিডিও তুলুন

প্রতিটি ঘরের সব দিক, দেয়াল, মেঝে, বাথরুম, রান্নাঘর, আসবাব ও যন্ত্রপাতির ছবি তারিখসহ তুলুন। দাগ, ফাটল বা ক্ষতিগ্রস্ত জায়গা কাছ থেকে তুলুন। ফোনের ছবিতে তারিখ থাকে, তবুও দুই পক্ষ নিজেদের ফোনে সংরক্ষণ করুন এবং এক কপি অন্যজনকে পাঠিয়ে দিন। একটি ছোট ভিডিও করে সব ঘর ঘুরে দেখালে আরও ভালো।

৭. যেসব সমস্যা পাওয়া গেল, সেগুলোর সিদ্ধান্ত লিখুন

হস্তান্তরের সময় কোনো সমস্যা পেলে লিখে রাখুন এবং কে কবে ঠিক করবেন, তা ঠিক করুন। যেমন: "বাথরুমের একটি কল থেকে পানি পড়ে, বাড়িওয়ালা ওঠার ৭ দিনের মধ্যে মেরামত করবেন।" মৌখিক আশ্বাস নয়, লিখিত তারিখ নিন।

৮. স্বাক্ষর ও কপি

তালিকার প্রতিটি পাতায় দুই পক্ষ স্বাক্ষর করুন এবং তারিখ লিখুন। দুই কপি করে প্রত্যেকে একটি করে রাখুন। এই তালিকাকে ভাড়ার চুক্তির সংযুক্তি হিসেবে রাখুন। কীভাবে চুক্তি সাজাবেন, জানতে পড়ুন বাসা ভাড়ার চুক্তিতে কোন শর্তগুলো লিখে রাখবেন।

৯. বাসা ছাড়ার দিনে একই তালিকা ধরে মেলান

বাসা ছাড়ার দিনে ওঠার দিনের তালিকা ও ছবি সামনে রেখে একসঙ্গে ঘুরে দেখুন। স্বাভাবিক ব্যবহারে যে সামান্য ক্ষয় হয় (যেমন হালকা রং ফ্যাকাশে হওয়া), আর অবহেলার ক্ষতি (যেমন ভাঙা কাচ বা দেয়ালে বড় দাগ), দুটি আলাদা। অগ্রিম থেকে কোনো টাকা কাটার প্রশ্ন উঠলে এই তালিকাই ভিত্তি হবে।

বাসা হস্তান্তরের চূড়ান্ত তালিকা

বিষয় ঠিক আছে?
দুই পক্ষ উপস্থিত ☐
প্রতিটি ঘরের অবস্থা লিখেছি ☐
আসবাব ও যন্ত্রপাতির তালিকা করেছি ☐
মিটার রিডিং লিখে ছবি তুলেছি ☐
চাবি, কার্ড ও রিমোট গুনেছি ☐
ছবি ও ভিডিও তুলে রেখেছি ☐
সমস্যার সমাধানের তারিখ লিখেছি ☐
দুই পক্ষ স্বাক্ষর করেছি, কপি রেখেছি ☐

শেষ কথা

আধঘণ্টার এই কাজ ভবিষ্যতের অনেক ঘণ্টার তর্ক ও অযথা খরচ থেকে বাঁচায়। সম্পর্ক ভালো রাখার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো প্রথম দিনেই সবকিছু স্পষ্ট ও লিখিত রাখা।

Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: ভাড়ার বাসা খুঁজতে আমাদের Rent Property পাতা ঘুরে দেখুন, অথবা প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন।