নিজের জমানো টাকায় পুরো দাম দিয়ে ফ্ল্যাট কেনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তাই বাংলাদেশে ফ্ল্যাট কেনার সময় অনেকে ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হোম লোনের কথা ভাবেন। সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে হোম লোন স্বপ্নের বাসাকে বাস্তব করতে পারে, কিন্তু না বুঝে নিলে দীর্ঘদিনের কিস্তির চাপও হয়ে উঠতে পারে।
এই লেখায় হোম লোন নিয়ে আবেদনের আগে যে বিষয়গুলো জানা ও প্রস্তুত রাখা দরকার, তা সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
গুরুত্বপূর্ণ: এই লেখাটি সাধারণ তথ্যের জন্য, আর্থিক পরামর্শ নয়। সুদের হার, ঋণের সীমা, ফি ও শর্ত প্রতিষ্ঠানভেদে এবং সময়ভেদে আলাদা হয়। সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে হালনাগাদ তথ্য লিখিতভাবে নিন।
হোম লোন আসলে কী
হোম লোন হলো বাসা বা ফ্ল্যাট কেনা, নির্মাণ বা সংস্কারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। সাধারণত কেনা সম্পত্তিটিই ঋণের জামানত হিসেবে বন্ধক থাকে। ঋণ পুরোপুরি শোধ না হওয়া পর্যন্ত সম্পত্তির মূল দলিল সাধারণত ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকে।
আবেদনের আগে নিজের সামর্থ্য যাচাই করুন
ব্যাংকে যাওয়ার আগে নিজে একটি সহজ হিসাব করুন:
- প্রতি মাসে সংসারের সব খরচ মিটিয়ে নিয়মিত কত টাকা কিস্তির জন্য রাখা সম্ভব।
- আয় হঠাৎ কমে গেলে কয়েক মাস চালানোর মতো জরুরি সঞ্চয় আছে কিনা।
- ফ্ল্যাটের দামের যে অংশ নিজের টাকায় দিতে হবে (ডাউন পেমেন্ট), সেটি হাতে আছে কিনা।
- রেজিস্ট্রেশন, ইন্টেরিয়র ও বাসা বদলের খরচ আলাদাভাবে রাখা আছে কিনা।
কিস্তির অঙ্ক এমন হওয়া উচিত, যা আয় কিছুটা কমলেও চালিয়ে যাওয়া যায়।
যে খরচগুলো হিসাবে রাখবেন
শুধু মাসিক কিস্তি দেখে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হতে পারে। জিজ্ঞেস করে নিন:
- সুদের হার স্থির নাকি পরিবর্তনশীল, এবং পরিবর্তন হলে কিস্তি কীভাবে বদলাবে
- প্রসেসিং ফি ও অন্যান্য চার্জ
- সম্পত্তির মূল্যায়ন ও আইনি যাচাইয়ের খরচ
- বীমা প্রয়োজন হলে তার খরচ
- নির্ধারিত সময়ের আগে ঋণ শোধ করলে কোনো চার্জ আছে কিনা
- কিস্তি দেরিতে দিলে জরিমানা কত
একাধিক প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব পাশাপাশি তুলনা করুন। শুধু সুদের হার নয়, মোট খরচ দেখুন।
সাধারণত যে কাগজপত্র লাগে
প্রতিষ্ঠানভেদে তালিকা আলাদা হতে পারে, তবে সাধারণত চাওয়া হয়:
| ধরন | উদাহরণ |
|---|---|
| পরিচয় | জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট, ছবি |
| আয়ের প্রমাণ | বেতনের সনদ ও স্লিপ, ব্যবসার ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও হিসাব |
| ব্যাংক হিসাব | কয়েক মাসের ব্যাংক স্টেটমেন্ট |
| কর | আয়কর রিটার্ন জমার প্রমাণ |
| সম্পত্তি | বিক্রয় বা বরাদ্দ চুক্তি, জমি ও ফ্ল্যাটের মালিকানার কাগজ, অনুমোদিত নকশা |
কাগজপত্র আগে থেকে গুছিয়ে রাখলে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান সম্পত্তিও যাচাই করে
হোম লোনের আবেদনে প্রতিষ্ঠান শুধু আপনার আয় নয়, সম্পত্তিটিও যাচাই করে। জমির মালিকানা, ডেভেলপারের সঙ্গে জমির মালিকের চুক্তি এবং নকশা অনুমোদনে সমস্যা থাকলে ঋণ মঞ্জুর নাও হতে পারে। এটি এক অর্থে আপনার জন্যও বাড়তি সুরক্ষা। তবে প্রতিষ্ঠানের যাচাইয়ের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেও আইনজীবীর মাধ্যমে কাগজপত্র দেখিয়ে নিন। কোন কাগজ কেন জরুরি, তা জানতে পড়ুন: ফ্ল্যাট কেনার সময় কোন কাগজপত্র যাচাই করা জরুরি।
নির্মাণাধীন ফ্ল্যাটে ঋণ নিলে
নির্মাণাধীন প্রকল্পে অনেক সময় ঋণের টাকা নির্মাণের অগ্রগতি অনুযায়ী ধাপে ধাপে ছাড় হয়। এ ক্ষেত্রে জেনে নিন:
- কোন ধাপে কত টাকা ছাড় হবে
- হস্তান্তরে দেরি হলে কিস্তি শুরু হবে কবে থেকে
- ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানটি ঋণদাতার কাছে গ্রহণযোগ্য কিনা
আবেদনের ধাপগুলো
- কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শর্ত জেনে তুলনা করুন।
- নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী ঋণের অঙ্ক ও মেয়াদ ঠিক করুন।
- কাগজপত্র জমা দিয়ে আবেদন করুন।
- প্রতিষ্ঠান আপনার আয় ও সম্পত্তি যাচাই করবে।
- মঞ্জুরিপত্র (স্যাংশন লেটার) হাতে পেলে সব শর্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন।
- চুক্তি ও বন্ধকের কাগজ সম্পন্ন হলে ঋণের টাকা ছাড় হবে।
মঞ্জুরিপত্রে কোনো শর্ত বুঝতে না পারলে সই করার আগে প্রশ্ন করুন।
কিছু সাধারণ ভুল
- সর্বোচ্চ যত ঋণ পাওয়া যায়, ততটাই নিয়ে ফেলা
- জরুরি সঞ্চয় না রেখে সব টাকা ডাউন পেমেন্টে দেওয়া
- পরিবর্তনশীল সুদহারে কিস্তি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা না ভাবা
- শুধু বিজ্ঞাপনের সুদহার দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া
শেষ কথা
হোম লোন একটি দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। নিজের সামর্থ্য বুঝে, মোট খরচ তুলনা করে এবং সম্পত্তির কাগজপত্র যাচাই করে তবেই আবেদন করুন। প্রয়োজনে একজন যোগ্য আর্থিক পরামর্শকের সঙ্গে কথা বলুন।
Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: বাজেট অনুযায়ী ফ্ল্যাট খুঁজতে আমাদের Buy Property পাতা দেখুন। পছন্দের ফ্ল্যাট নিয়ে প্রশ্ন থাকলে যোগাযোগ করুন।