নিজের ফ্ল্যাট বা বাসা ভাড়া দেওয়া অনেক পরিবারের জন্য নিয়মিত আয়ের ভালো উৎস। তবে প্রস্তুতি ছাড়া ভাড়া দিলে ভাড়া আদায়ে সমস্যা, সম্পত্তির ক্ষতি কিংবা ভাড়াটিয়ার সঙ্গে বিরোধের ঝুঁকি থাকে। একটু পরিকল্পনা করলে বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া দুজনের সম্পর্কই সহজ ও স্বচ্ছ রাখা যায়।
এই লেখায় একজন বাড়িওয়ালা হিসেবে ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ার আগে যে বিষয়গুলো প্রস্তুত রাখা দরকার, তা ধাপে ধাপে তুলে ধরা হলো।
১. ফ্ল্যাটকে ভাড়ার জন্য প্রস্তুত করুন
ভাড়াটিয়া দেখাতে আনার আগে বাসাটি বসবাসের উপযোগী আছে কিনা নিশ্চিত হোন:
- পানির লাইন, কল ও ড্রেনেজ ঠিকমতো কাজ করছে কিনা
- বৈদ্যুতিক সুইচ, সকেট, ফ্যান ও লাইট ঠিক আছে কিনা
- দরজা-জানালার তালা ও ছিটকিনি নিরাপদ কিনা
- দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে দাগ বা চুইয়ে পড়া পানি আছে কিনা
- গ্যাসের লাইন থাকলে তা নিরাপদ কিনা
ছোট মেরামত আগে সেরে নিলে ভালো ভাড়াটিয়া পাওয়া সহজ হয় এবং পরে অভিযোগও কমে।
২. বাস্তবসম্মত ভাড়া ঠিক করুন
একই এলাকায় একই ধরনের ফ্ল্যাট কত টাকায় ভাড়া হচ্ছে, তা খোঁজ নিন। আয়তন, তলা, লিফট, পার্কিং, গ্যাস সংযোগ ও আশেপাশের সুবিধা বিবেচনা করে ভাড়া ঠিক করুন। অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে বাসা দীর্ঘদিন খালি থাকতে পারে, যা আসলে লোকসান।
ভাড়ার সঙ্গে কোন খরচগুলো অন্তর্ভুক্ত (যেমন সার্ভিস চার্জ, পানি, পার্কিং) আর কোনগুলো আলাদা, তা শুরুতেই স্পষ্ট করে বলুন।
৩. ভাড়াটিয়া যাচাই করুন
ভালো ভাড়াটিয়া বাছাই করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কাউকে চূড়ান্ত করার আগে:
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি নিন
- পেশা ও কর্মস্থলের তথ্য জেনে নিন
- পরিবারের সদস্যসংখ্যা জানুন
- সম্ভব হলে আগের বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথা বলুন
- জরুরি যোগাযোগের জন্য একজন আত্মীয়ের নম্বর নিন
ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে ভাড়াটিয়ার তথ্য স্থানীয় থানায় জমা দেওয়ার নিয়ম চালু আছে। নির্ধারিত ফরম ও জমার নিয়ম সংশ্লিষ্ট থানা থেকে জেনে নিন।
ভাড়াটিয়ার ব্যক্তিগত কাগজপত্রের কপি নিরাপদে রাখুন এবং অন্য কাউকে দেবেন না।
৪. লিখিত ভাড়া চুক্তি করুন
মুখের কথার চেয়ে লিখিত চুক্তি দুই পক্ষকেই সুরক্ষা দেয়। চুক্তিতে অন্তত এগুলো রাখুন:
| বিষয় | যা লিখবেন |
|---|---|
| ভাড়া | মাসিক অঙ্ক ও কোন তারিখের মধ্যে দিতে হবে |
| অগ্রিম | পরিমাণ এবং কীভাবে সমন্বয় বা ফেরত হবে |
| মেয়াদ | চুক্তি কত দিনের এবং নবায়নের নিয়ম |
| ভাড়া বৃদ্ধি | কখন ও কীভাবে ভাড়া বাড়ানো হতে পারে |
| নোটিশ | বাসা ছাড়ার বা ছাড়তে বলার আগে কত দিনের নোটিশ |
| মেরামত | কোন মেরামত কার দায়িত্বে |
| ব্যবহার | শুধু আবাসিক ব্যবহার, সাবলেট দেওয়া যাবে কিনা |
বাংলাদেশে বাড়ি ভাড়া নিয়ে একটি আইন (বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১) রয়েছে। চুক্তির শর্ত বা বিরোধ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
৫. হস্তান্তরের দিন সবকিছু নথিভুক্ত করুন
ভাড়াটিয়া ওঠার দিন:
- প্রতিটি ঘর, ফিটিংস ও আসবাব (থাকলে) এর ছবি তারিখসহ রাখুন
- মিটারের রিডিং লিখে রাখুন
- কয়টি চাবি দেওয়া হলো তা লিখুন
- দুই পক্ষ মিলে একটি সংক্ষিপ্ত তালিকায় সই করুন
বাসা ছাড়ার সময় কোনো ক্ষতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এগুলোই সবচেয়ে কাজের প্রমাণ।
৬. ভাড়া আদায় ও রসিদ
প্রতি মাসের ভাড়ার জন্য রসিদ দিন। সম্ভব হলে ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া নিন, এতে দুই পক্ষেরই হিসাব পরিষ্কার থাকে। ভাড়া থেকে আয়ের হিসাব আলাদা করে রাখুন; আয়কর রিটার্নে ভাড়া আয় দেখাতে হয় কিনা এবং কীভাবে, তা একজন কর পরামর্শকের কাছ থেকে জেনে নিন।
৭. ভালো সম্পর্ক বজায় রাখুন
- মেরামতের অনুরোধে সময়মতো সাড়া দিন
- বাসায় ঢোকার আগে ভাড়াটিয়াকে জানিয়ে আসুন
- ভবনের নিয়মকানুন শুরুতেই লিখিতভাবে জানিয়ে দিন
- সমস্যা হলে শান্তভাবে আলোচনা করুন এবং লিখিত রাখুন
সন্তুষ্ট ভাড়াটিয়া দীর্ঘদিন থাকেন, এতে বাসা খালি থাকার ঝুঁকিও কমে।
শেষ কথা
ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়া একটি ছোট ব্যবসার মতো। বাসা প্রস্তুত রাখা, বাস্তবসম্মত ভাড়া, ভাড়াটিয়া যাচাই এবং লিখিত চুক্তি: এই চারটি বিষয় ঠিক থাকলে বেশিরভাগ ঝামেলা এড়ানো যায়। ভাড়াটিয়ার দিক থেকে কোন বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ, তা জানতে পড়ুন: ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়ার আগে ভাড়াটিয়ার যে বিষয়গুলো জানা দরকার।
Orvix Real Estate-এর সঙ্গে: আপনার ফ্ল্যাট ভাড়া দিতে চাইলে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ভাড়ার বাজার সম্পর্কে ধারণা পেতে দেখুন আমাদের Rent Property পাতা।