ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আলো ও বাতাসযুক্ত ফ্ল্যাট পাওয়া সহজ নয়। অথচ পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো, খোলা বাতাস ও একটি ব্যবহারযোগ্য বারান্দা প্রতিদিনের আরাম, স্বাস্থ্য এবং বিদ্যুৎ খরচে বড় পার্থক্য আনে। বিজ্ঞাপনের ছবিতে বারান্দা সুন্দর দেখালেও বাস্তবে সামনে দেয়াল বা পাশের ভবনের জানালা থাকতে পারে।

এই লেখায় ঢাকার ফ্ল্যাটে বারান্দা, আলো ও বাতাস কীভাবে যাচাই করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

১. ফ্ল্যাটের দিক কোনটি

ফ্ল্যাটের জানালা ও বারান্দা কোন দিকে মুখ করা, জেনে নিন। বাংলাদেশে সাধারণত দক্ষিণ দিক বাতাস চলাচল ও আলোর জন্য পছন্দ করা হয়, কারণ গ্রীষ্মে দক্ষিণা বাতাস আসে। পশ্চিম দিকে বিকেলে প্রচণ্ড রোদ ঢোকে ও ঘর গরম হয়। তবে পরিবারের অভ্যাস ও প্রয়োজন ভেদে পছন্দ আলাদা হতে পারে।

২. দিনের ভিন্ন সময়ে দেখুন

সম্ভব হলে সকাল ও বিকেল, দুবার বাসা দেখুন, কারণ আলোর অবস্থা বদলে যায়। সূর্য কোন সময়ে কোন ঘরে আসে এবং কতক্ষণ থাকে, লক্ষ করুন। ঘরে ঢুকে বিদ্যুতের বাতি না জ্বালিয়ে দিনের আলোতে কতটা পড়া বা কাজ করা যায়, পরীক্ষা করুন।

৩. সামনে ও আশেপাশে কী আছে

বারান্দা বা জানালা থেকে বাইরে তাকান। খুব কাছে অন্য ভবনের দেয়াল থাকলে আলো ও বাতাস কম আসবে এবং গোপনীয়তা কমবে। সামনে খালি জায়গা থাকলে ভবিষ্যতে সেখানে নতুন ভবন উঠলে আলো-বাতাস বাধা পাবে কি না, আগেই ভেবে নিন। আশেপাশের ভবনের উচ্চতা ও দূরত্ব দেখুন।

৪. ঘরে বাতাস চলাচল (ক্রস ভেন্টিলেশন)

ভালো বাতাস চলাচলের জন্য ঘরের বিপরীত দিকে খোলা জানালা বা দরজা থাকা ভালো, যাতে বাতাস একদিক থেকে ঢুকে অন্যদিকে বেরোতে পারে। সবগুলো জানালা খুলে দেখুন: খুলতে ও বন্ধ করতে সহজ কি না, ঠিকমতো লাগে কি না। বদ্ধ ঘর, রান্নাঘর ও বাথরুমে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা (জানালা বা এক্সহস্ট ফ্যান) আছে কি না, বিশেষভাবে দেখুন।

৫. বারান্দার আকার ও ব্যবহার

বারান্দা কত চওড়া এবং কী কাজে ব্যবহার করতে চান, ভেবে নিন: কাপড় শুকানো, গাছ রাখা, চেয়ারে বসা। খুব সরু বারান্দা শুধু নামেই বারান্দা হয়। ফ্রিজ বা মালপত্র রাখার জন্য নিরাপদ ও ছায়াযুক্ত জায়গা আছে কি না, দেখুন। ঢাকা বা আচ্ছাদনহীন বারান্দায় বৃষ্টির পানি ভেতরে আসে কি না এবং পানি নিষ্কাশনের নালা ঠিক আছে কি না, পরীক্ষা করুন।

৬. বারান্দার নিরাপত্তা

রেলিংয়ের উচ্চতা ও মজবুতি দেখুন। ছোট শিশু থাকলে রেলিংয়ের ফাঁক ও ওঠার সুযোগ বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন। রেলিংয়ে মরিচা বা নড়বড়ে ভাব থাকলে মেরামতের কথা আগেই ঠিক করুন। বয়স্ক বা শিশুর জন্য কী দেখবেন, জানতে পড়ুন বয়স্ক সদস্য বা শিশুর জন্য অ্যাপার্টমেন্ট বাছাই।

৭. স্যাঁতসেঁতে ও পানির দাগ খেয়াল করুন

দেয়াল ও ছাদে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ছত্রাক বা ফুলে ওঠা রং আলো-বাতাসের অভাবের লক্ষণ হতে পারে, আবার পানি চুইয়ে ঢোকারও। বারান্দার পাশের দেয়ালে ও জানালার চারপাশে বিশেষভাবে দেখুন। বর্ষার সময় এসব সমস্যা বেশি স্পষ্ট হয়।

৮. গোপনীয়তা ও শব্দ

জানালা বা বারান্দা দিয়ে সামনের ফ্ল্যাট বা রাস্তার লোক সরাসরি ভেতরে দেখতে পায় কি না, লক্ষ করুন। রাস্তার যানবাহন, বাজার বা নির্মাণকাজের শব্দ জানালা খুলে কেমন আসে, শুনে দেখুন। ভালো আলো-বাতাসের সঙ্গে গোলমাল মেলাতে হতে পারে; ভারসাম্য খুঁজুন।

৯. ফ্ল্যাট বাছাইয়ের সময় ছোট একটি পরীক্ষা

ফ্ল্যাট দেখতে গিয়ে সবগুলো আলো নিভিয়ে (দিনের বেলায়) সব ঘরে ঘুরুন এবং সবগুলো জানালা খুলে ১০ মিনিট দাঁড়ান। কোন ঘর অন্ধকার, কোনটি গুমোট এবং কোনটিতে স্বস্তি, নিজের অনুভূতিতেই বুঝতে পারবেন। ঘর দেখার আরও বিষয় পাবেন ফ্ল্যাট দেখতে গেলে যে বিষয়গুলো যাচাই করবেন লেখায়।

আলো, বাতাস ও বারান্দার চূড়ান্ত তালিকা

বিষয় ঠিক আছে?
ফ্ল্যাটের দিক ও রোদের সময় জেনেছি ☐
ভিন্ন সময়ে আলো দেখেছি ☐
সামনে ও আশেপাশে বাধা নেই ☐
ঘরে বাতাস চলাচল আছে ☐
বারান্দার আকার ও ব্যবহার উপযুক্ত ☐
বারান্দার রেলিং নিরাপদ ☐
স্যাঁতসেঁতে দাগ নেই ☐
গোপনীয়তা ও শব্দ গ্রহণযোগ্য ☐

শেষ কথা

আলো, বাতাস ও বারান্দা ছবিতে ধরা পড়ে না, নিজে গিয়ে অনুভব করতে হয়। একটু বাড়তি সময় নিয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে দেখলে আপনি এমন ফ্ল্যাট বেছে নিতে পারবেন, যেখানে প্রতিদিন থাকা আরামদায়ক হবে।

Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: পছন্দের ফ্ল্যাট দেখতে আমাদের Buy Property বা Rent Property পাতা ঘুরে দেখুন। পছন্দের বাসার পাতা থেকে ভিজিটের অনুরোধ পাঠাতে পারেন, অথবা যোগাযোগ করুন।