ছবি ও বিবরণ দেখে একটি ফ্ল্যাট পছন্দ হলে সিদ্ধান্তের আসল ধাপ শুরু হয় নিজে গিয়ে দেখার সময়। কিন্তু সেই সময়টুকু প্রায়ই খুব ছোট হয়, আর ঘুরে দেখতে গিয়ে অনেক জরুরি বিষয় চোখ এড়িয়ে যায়। কী কী দেখবেন, আগে থেকে জানা থাকলে অল্প সময়ে বেশি যাচাই করা যায়।

এই লেখায় ফ্ল্যাট সরেজমিন দেখতে গিয়ে কোন বিষয়গুলো পরীক্ষা করবেন, তা ঘর ধরে ধরে দেওয়া হলো। এটি ভবন ও ফ্ল্যাটের বাহ্যিক যাচাই; কাগজপত্র ও আইনি যাচাই আলাদা বিষয়।

১. যাওয়ার আগে প্রস্তুতি

  • সম্ভব হলে দিনের আলোতে সময় ঠিক করুন; আলোতে দাগ ও ফাটল ভালো দেখা যায়
  • সঙ্গে একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তি নিন, দুজনে বেশি চোখে পড়ে
  • ফোন, ফিতা (মাপার জন্য) ও ছবি তোলার ব্যবস্থা রাখুন
  • কী দেখবেন, তার একটি তালিকা আগে লিখে নিন

২. ভবনের বাইরে ও প্রবেশপথ

ফ্ল্যাটে ঢোকার আগেই ভবনটি দেখুন: দেয়ালে বড় ফাটল বা পানির দাগ আছে কি না, রং ও প্লাস্টারের অবস্থা কেমন, সামনের রাস্তা কত প্রশস্ত, গাড়ি রাখার জায়গা আছে কি না, নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভি আছে কি না। প্রবেশপথ ও সিঁড়ি পরিষ্কার ও আলোকিত কি না, তাও দেখুন।

৩. লিফট, সিঁড়ি ও কমন এলাকা

লিফট চালিয়ে দেখুন, ঝাঁকুনি বা অস্বাভাবিক শব্দ আছে কি না। সিঁড়ির রেলিং মজবুত কি না, জরুরি পথ খোলা আছে কি না, ছাদ ব্যবহারের সুযোগ ও অবস্থা কেমন: এগুলো দেখুন। ময়লা ফেলার ব্যবস্থা ও পানির ট্যাংক কোথায়, তাও জেনে নিন।

৪. ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ও দেয়াল

  • মূল দরজার তালা, ছিটকিনি ও ফ্রেম ঠিক আছে কি না
  • সব জানালা খোলা-বন্ধ করে দেখুন; গ্রিল মজবুত কি না
  • দেয়াল ও ছাদে স্যাঁতসেঁতে দাগ, ফুলে ওঠা রং বা ফাটল
  • মেঝের টাইল ফাঁপা বা ফাটা কি না (পায়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন)

বিশেষ করে বর্ষার পর ছাদ বা দেয়ালের পানি চুইয়ে পড়ার চিহ্ন আছে কি না, মনোযোগ দিয়ে দেখুন।

৫. রান্নাঘর ও বাথরুম

কল খুলে পানির চাপ ও পানির রং দেখুন। সিঙ্ক, বেসিন ও ফ্লোর ড্রেন দিয়ে পানি ঠিকমতো নামে কি না পরীক্ষা করুন। গ্যাসের লাইন বা চুলার সংযোগের অবস্থা, এক্সহস্ট ফ্যানের জায়গা ও বাথরুমে আলো-বাতাস চলাচল দেখুন। কমোড ও ফ্লাশ ঠিক কাজ করছে কি না, দেখে নিন।

৬. বিদ্যুৎ ব্যবস্থা

সবগুলো সুইচ ও সকেট চালিয়ে দেখুন। ফ্যান ও লাইটের সংযোগ আছে কি না, বিদ্যুতের মিটার কোথায় ও কী ধরনের (সাধারণ নাকি প্রি-পেইড), তা জেনে নিন। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপের ব্যবস্থা কী: জেনারেটর বা আইপিএস, লিফট ও ফ্ল্যাটে কীভাবে পাওয়া যায়, তা জিজ্ঞেস করুন।

৭. আলো, বাতাস ও আশেপাশের পরিবেশ

প্রতিটি ঘরে জানালা দিয়ে কতটা আলো ও বাতাস আসে, দেখুন। বারান্দা বা জানালা থেকে সামনে কী দেখা যায় এবং ভবিষ্যতে সামনে নতুন ভবন উঠলে আলো কমবে কি না, ভাবুন। কাছের বাজার, স্কুল, হাসপাতাল ও গণপরিবহন কত দূরে, এলাকায় শব্দ কেমন ও জলাবদ্ধতার ইতিহাস আছে কি না, সম্ভব হলে প্রতিবেশীদের কাছে জেনে নিন।

৮. মাপ ও নকশা মিলিয়ে দেখুন

বিজ্ঞাপন বা চুক্তিতে যে আয়তনের কথা বলা আছে, সেটি বাস্তব ঘরের মাপের সঙ্গে মোটামুটি মেলে কি না দেখুন। কিছু ঘর পরিমাপ করে ফ্ল্যাটের নকশার সঙ্গে তুলনা করুন। কিনছেন হলে আয়তনের হিসাব (সুপার বিল্ট-আপ নাকি ক্যারপেট এরিয়া) চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

৯. ছবি তুলুন ও প্রশ্নের তালিকা রাখুন

যা কিছু সমস্যা মনে হলো, ছবি তুলে রাখুন এবং তা নিয়ে মালিক বা ডেভেলপারকে প্রশ্ন করুন। মৌখিক আশ্বাসের বদলে লিখিত প্রতিশ্রুতি চান। কেনার ক্ষেত্রে কাগজপত্রের পাশাপাশি কোন ক্ষেত্রে আপনার নিজের একজন প্রকৌশলীর সাহায্য নেওয়া ভালো হবে, ভেবে দেখুন।

ফ্ল্যাট দেখার চূড়ান্ত তালিকা

বিষয় ঠিক আছে?
ভবনের বাইরে ফাটল বা পানির দাগ নেই ☐
লিফট ও সিঁড়ি নিরাপদ ☐
দরজা-জানালা ও তালা ঠিক ☐
দেয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব নেই ☐
পানির চাপ ও ড্রেনেজ ভালো ☐
বিদ্যুৎ ও ব্যাকআপের ব্যবস্থা পরীক্ষিত ☐
আলো-বাতাস পর্যাপ্ত ☐
মাপ বিজ্ঞাপনের সঙ্গে মেলে ☐

শেষ কথা

একবার ভালো করে দেখে নেওয়ার সময় একটু বেশি লাগলেও তা পরে বড় খরচ ও ঝামেলা থেকে বাঁচায়। তাড়াহুড়ো না করে প্রয়োজনে দ্বিতীয়বার যান, ভিন্ন সময়ে। বিজ্ঞাপন দেখে ফোনে কী কী প্রশ্ন করবেন, তা জানতে পড়ুন অ্যাপার্টমেন্ট দেখার সময় বুকিংয়ের আগে যে প্রশ্নগুলো করবেন।

Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: পছন্দের ফ্ল্যাট দেখতে আমাদের Buy Property বা Rent Property পাতা ঘুরে দেখুন। বাসার পাতা থেকে সরাসরি ভিজিটের অনুরোধ পাঠানো যায়, অথবা যোগাযোগ করুন।