ছোট পরিবারের জন্য ফ্ল্যাট বাছাই করার সময় অনেকেই ঘরের সংখ্যা ও মোট আয়তন দেখে সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু একই আয়তনের দুটি ফ্ল্যাটে থাকা-খাওয়ার আরাম আকাশ-পাতাল তফাত হতে পারে, শুধু ঘরের বিন্যাস ও জিনিস রাখার জায়গার কারণে। একটি ফ্ল্যাটে হাঁটাচলার জায়গা নষ্ট হয় অপ্রয়োজনীয় করিডোরে, আরেকটিতে প্রতিটি কোণ কাজে লাগে।

এই লেখায় স্বামী-স্ত্রী বা ছোট সন্তানসহ ছোট পরিবারের জন্য ফ্ল্যাটের লে-আউট ও স্টোরেজ কীভাবে যাচাই করবেন, তা ধাপে ধাপে দেওয়া হলো।

১. আয়তনের চেয়ে ব্যবহারযোগ্য জায়গা দেখুন

বর্গফুটের সংখ্যা বিজ্ঞাপনে বেশি বড় দেখালেও তার একটি অংশ যায় দেয়াল, করিডোর ও বারান্দায়। ফ্ল্যাটে ঢুকে হেঁটে দেখুন: ঘরগুলো সরাসরি বসার ঘরের সঙ্গে যুক্ত, নাকি লম্বা করিডোর ঘুরে? করিডোর যত ছোট, ঘরের ব্যবহারযোগ্য জায়গা তত বেশি।

২. বসার ও খাওয়ার জায়গার বিন্যাস

বসার ঘর ও খাওয়ার জায়গা একসঙ্গে থাকলে ছোট ফ্ল্যাট বড় মনে হয়। সোফা, টেলিভিশন ও খাবার টেবিল রাখার জায়গা আছে কি না, এবং দরজা-জানালা খুলতে আসবাব বাধা দেয় কি না, কল্পনা করে দেখুন। কিছু আসবাবের আনুমানিক মাপ নিয়ে গিয়ে বসিয়ে দেখলে ভুল ধারণা কম হয়।

৩. শোবার ঘর: আলো, বাতাস ও আসবাবের জায়গা

শোবার ঘরে খাট, আলমারি ও চলাচলের জায়গা একসঙ্গে ঢোকে কি না, মাপ দিয়ে দেখুন। একটি খাট ও একটি আলমারির পর অন্তত একজন মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটার জায়গা থাকা ভালো। জানালা কোন দিকে এবং দিনের কোন সময়ে আলো আসে, খেয়াল করুন।

৪. দেয়ালে তৈরি আলমারি ও তাক

কিছু ফ্ল্যাটে দেয়ালের ভেতরে তৈরি ওয়ারড্রোব, কিচেন ক্যাবিনেট ও তাক থাকে। এগুলো ফ্ল্যাটের বাড়তি সুবিধা, কারণ পরে আলাদা আসবাব কেনার খরচ ও জায়গা বাঁচে। তবে এগুলোর মান ও ভাড়ার ক্ষেত্রে ভাড়ার মধ্যে ধরা আছে কি না, জিজ্ঞেস করুন।

৫. রান্নাঘর ও ভাঁড়ারের জায়গা

রান্নাঘরে চুলা, ফ্রিজ, সিঙ্ক ও কাজের জায়গা সুবিধাজনকভাবে সাজানো যায় কি না দেখুন। ভাঁড়ার বা মালপত্র রাখার ছোট জায়গা আছে কি না, যেখানে মৌসুমি জিনিস ও বাড়তি পাত্র রাখা যায়। ফ্রিজ কোথায় বসবে, তা আগেই ভেবে নিন।

৬. বারান্দা ও বাড়তি জায়গার ব্যবহার

বারান্দায় কাপড় শুকানো, কয়েকটি গাছ বা ছোট বসার ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখুন। বারান্দা ঢাকা থাকলে মালপত্র রাখারও কাজে লাগে। বারান্দার রেলিংয়ের উচ্চতা ও মজবুতি, ছোট শিশু থাকলে বিশেষভাবে পরীক্ষা করুন। আলো, বাতাস ও গোপনীয়তা কেমন, তা জানতে পড়ুন ঢাকার ফ্ল্যাটে বারান্দা, আলো ও বাতাস যাচাই।

৭. স্টোরেজের বুদ্ধি: খাড়া জায়গা কাজে লাগান

জায়গা কম হলে মেঝে নয়, দেয়ালের উচ্চতা ব্যবহার করুন: উঁচু তাক, বিছানার নিচে বাক্স, দরজার পেছনে হুক, ওপরের কোণে ঝুলন্ত তাক। ছোট ফ্ল্যাটে কম কিন্তু বহুমুখী আসবাব বেশি কার্যকর, যেমন নিচে ড্রয়ারসহ খাট বা ভাঁজ করা টেবিল।

৮. ভবিষ্যতের কথা ভাবুন

আজ দুজনের জন্য যথেষ্ট ফ্ল্যাট দুই-তিন বছরে সন্তান হলে বা বয়স্ক সদস্য এলে ছোট মনে হতে পারে। কত দিন থাকার পরিকল্পনা, সেই অনুযায়ী একটি বাড়তি ঘর বা নমনীয় ব্যবহারের জায়গা আছে কি না ভাবুন। বয়স্ক বা শিশুর জন্য কী দেখবেন, জানতে পড়ুন বয়স্ক সদস্য বা শিশুর জন্য অ্যাপার্টমেন্ট বাছাই।

লে-আউট ও স্টোরেজের চূড়ান্ত তালিকা

বিষয় ঠিক আছে?
করিডোরে জায়গা নষ্ট হয়নি ☐
বসা ও খাওয়ার জায়গার বিন্যাস পছন্দ ☐
শোবার ঘরে খাট ও আলমারির পর হাঁটার জায়গা আছে ☐
তৈরি আলমারি বা তাকের সুবিধা আছে ☐
রান্নাঘর ও ভাঁড়ারের জায়গা যথেষ্ট ☐
বারান্দার ব্যবহার ও নিরাপত্তা ঠিক ☐
ভবিষ্যতের প্রয়োজনের জন্য নমনীয়তা আছে ☐

শেষ কথা

ভালো ফ্ল্যাট মানে বড় ফ্ল্যাট নয়, বরং আপনার পরিবারের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো ফ্ল্যাট। বাসা দেখতে যাওয়ার সময় ফিতা ও আসবাবের মাপ সঙ্গে নিন, আর প্রতিটি ঘরে নিজের দৈনন্দিন জীবনের একটি দিন কল্পনা করে দেখুন।

Orvix Real Estate-এর সঙ্গে খুঁজুন: পরিবারের উপযোগী ফ্ল্যাট দেখতে আমাদের Buy Property বা Rent Property পাতা ঘুরে দেখুন, অথবা প্রয়োজন জানিয়ে যোগাযোগ করুন।